নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নগর প্রশাসন। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নগর ভবনের সভাকক্ষে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক ফগার মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকবে, সেসব ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে তাদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব সবচেয়ে কম থাকবে, তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম একযোগে চালিয়ে যেতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সরবরাহ করা মশকনাশক ওষুধ পরীক্ষিত ও মানসম্মত। এসব ওষুধের সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার বা কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ফগিং, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নাসিক।
এ সময় নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম।
নাসিক সূত্র জানায়, ২৭টি ওয়ার্ডের জন্য পর্যায়ক্রমে ফগার মেশিন সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ধাপে ১৬টি ফগার মেশিন বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৬টি মেশিন দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই ধাপে মোট ৩২টি ফগার মেশিন ওয়ার্ড পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা প্রদান করা হবে।

