নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, চাকরিজীবী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা।
গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কেউ কেউ কাঠের চুলায় রান্না করছেন, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাসা থেকে খাবার এনে দিন পার করছেন।
নগরীর ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ শাহানাজ বেগম বলেন, সকালে রান্না করতে উঠে তিনি গ্যাস পাননি। স্বামীকে অফিসে এবং সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর জন্য সময়মতো নাশতা তৈরি করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাঠের চুলায় রান্না করতে হয়েছে।
কাশিপুরের হোসাইনী নগর এলাকার বাসিন্দা মিতু আক্তারও গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগের কথা জানান। তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চুলার ওপর হাঁড়িতে বসানো পানিও গরম হয়নি।
মিতু আক্তার বলেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। সকালে একেবারেই গ্যাস থাকে না। মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য সরবরাহ এলেও চাপ এত কম থাকে যে রান্না শেষ করার আগেই চলে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে একেবারেই গ্যাস না থাকায় ছোট বোনের বাসা থেকে খাবার এনে খেতে হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকে। মাঝেমধ্যে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস এলেও চাপ এত কম থাকে যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হয় না।
হঠাৎ তীব্র গ্যাস সংকটের কারণ জানতে চাইলে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম মনজুর আজিজ মোহন বলেন, এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড গ্যাসিফিকেশন ইউনিট)-এর দুটি ইউনিটের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি মেরামত শেষে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়ে মনজুর আজিজ মোহন বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডিপার্টমেন্টে তিতাসের প্রায় ৮১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ডাউনস্ট্রিম এলাকায় থাকা গ্রাহকেরাই গ্যাস সংকটে বেশি ভুগছেন। আপস্ট্রিম এলাকার গ্রাহকেরা কিছুটা হলেও সরবরাহ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনে তিতাস কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।

