নারায়ণগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাসাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানী। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্বে থাকা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদকে ‘অযোগ্য নির্বাচন কমিশনার’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের নির্বাচনে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন আনিসুল ইসলাম সানী।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এ ধরনের নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আনিসুল ইসলাম সানী আরও বলেন, ভোটার তালিকায় নানা ধরনের ভুল ছিল। নামের বানান ও সিরিয়াল নম্বরে অসংগতি রয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। আমার মনে হয়েছে, একটি অযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট দিয়ে এলাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নির্বাচনের তফসিল ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও হোসিয়ারি সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনার নিয়মকানুন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচন প্রচলিত নির্বাচনী তফসিল ও নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এদিকে নানা অভিযোগের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের প্রথম নির্বাচনে জয় পেয়েছে নবী-টিপু প্যানেল। নির্বাচনে সেক্রেটারি পদে ১৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম খান রেজা পেয়েছেন ১৫৪ ভোট।
কার্যনির্বাহী কমিটির পাঁচটি সদস্য পদেও জয় পেয়েছেন নবী-টিপু প্যানেলের প্রার্থীরা। এ পদে সর্বোচ্চ ২৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। অন্য নির্বাচিতরা হলেন অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির (২৮১), অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন (২৭৫), রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী (২৬৩) এবং ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন (২১৮)।
অন্যদিকে, সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান। তিনি পেয়েছেন ১১০ ভোট। এ ছাড়া মো. হারুন অর রশীদ খান ৯১ এবং মোহাম্মদ নাজমুল হক ৮৭ ভোট পেয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. নবী হোসেন। পদাধিকারবলে ইউনিটের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ।
শনিবার জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। মোট ৯৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৩৩৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। আজীবন সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং এনডিএ চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব।
‘অযোগ্য নির্বাচন কমিশন’, রেড ক্রিসেন্টের ভোট নিয়ে সানীর ক্ষোভ
Leave a Comment

