নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটিতে পদ-পদবি না থাকা ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজন এবং কেক কাটাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, যুবদলের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না থাকা ব্যক্তিদের এমন কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদ বলেছেন, যুবদলের সদস্য নন এমন ব্যক্তিরাও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মসূচি আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। যারা যুবদলের সদস্যও তারা যুবদলের নাম ব্যাবহার করে দলের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাদের কারো কারো নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগরের আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে বিশৃঙ্খলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে যুবদলের সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটিতে সাগরের সদস্যপদ নেই বলে জানিয়েছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল। ফলে তিনি কোন সাংগঠনিক পরিচয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজন করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
একইভাবে, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, জোসেফের নাম মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটিতে নেই।
গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জোসেফ বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির পদধারী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির ওই বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের কমিটিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নাম নেই। তাঁর কর্মকাণ্ডের দায়ভার যুবদল বহন করবে না বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এমন অবস্থান জানানোর পরও জোসেফের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজন করায় প্রশ্ন উঠেছে, সাংগঠনিক স্বীকৃতি না থাকলে কোন পরিচয়ে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে? যুবদলের নেতাদের অভিযোগ, সংগঠনের অনুমোদিত কমিটির বাইরে থেকে কেউ যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মসূচি পালন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংগঠন সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, কেক নিয়ে বিশৃঙ্খলার মতো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার দায়ও সংগঠনের ওপর বর্তানোর আশঙ্কা থাকে।
এদিকে, জোসেফের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। বিএনপির মহানগর পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক অবস্থানের সঙ্গে এই উপস্থিতির কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না। তবে এ বিষয়ে টিপুর বক্তব্য জানা গেলে তাঁর অংশগ্রহণের কারণ ও অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি সংগঠনের ঐতিহ্য, সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য তুলে ধরার উপলক্ষ। সেখানে সংগঠনের সদস্য নন বা অনুমোদিত কমিটিতে যাঁদের নাম নেই, তাঁদের নেতৃত্বে কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করলে মূল সংগঠনের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের অভিযোগ, সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত কোনো কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পুরো সংগঠনের ওপর। তাই যুবদলের নামে কর্মসূচি পালনকারীদের সাংগঠনিক পরিচয় ও অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুবদলের বর্তমান কমিটিতে পদ-পদবি না থাকা ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আয়োজিত এসব কর্মসূচির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কে কর্মসূচি পালন করতে পারবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

