রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পিত মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় এবার নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ সরাসরি নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের উদ্যোগও এগিয়ে চলছে।
জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের রুট এলাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ট, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি ও শিবুমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে গিয়ে শেষ হবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত এ রুটের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রি-ফিজিবিলিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত অনুমোদন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে অর্থায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করা হবে।
অন্যদিকে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, উড়াল ও পাতালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এ মেট্রোরেল লাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের প্রস্তুত করা সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমআরটি লাইন-২ ও এমআরটি লাইন-৪ বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী লাখো মানুষ দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবহন সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে সড়কে যানজট কমবে এবং নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
উল্লেখ্য, সরকারের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে একাধিক মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এমআরটি লাইন-৬ চালু হয়েছে এবং এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর কাজ চলমান রয়েছে।

