কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো একই পরিবারের তিন সদস্যকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে।
নিহতরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার শিশু ছেলে ফাইজান নূর। গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের মৃত্যু হয়।
বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিসসংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাঁদের দাদার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফারিহা কবির ও নাফিস তেহামির বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, ফারিহা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে ফাইজান নূর স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
নিহতদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁদের ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই রিসোর্টে আগুন লাগে। আগুনের ঘটনায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য বের হতে সক্ষম হলেও ফারিহা, নাফিস ও ফাইজান প্রাণে বাঁচেননি।
এ ঘটনায় রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত থাকলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, একই ঘটনায় নিহত তাঁদের আরেক স্বজন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে।
একটি ভ্রমণকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে আনন্দের প্রত্যাশা ছিল, তা শেষ হয়েছে স্বজন হারানোর বেদনায়। ফতুল্লায় তিনজনের দাফন সম্পন্ন হলেও তাঁদের হারানোর শোক দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে পরিবারকে।

