নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে আইনজীবী অঙ্গনে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আইনজীবীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংঘর্ষের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান,অ্যাডভোকেট শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত, অ্যাডভোকেট রায়হান, অ্যাডভোকেট সুইটি ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
তবে টিপুর এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান সহ আইনজীবীরা। তিনি বলেছেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না; বরং সাধারণ আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চান তারা।
অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান বলেন, “ক্ষমা নয়, আমরা সাধারণ আইনজীবীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার চাই। আমরা কোনো অপরাধ করিনি যে আমাদের কারও কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সাধারণ আইনজীবীদের ওপর হামলা কেন হলো, কার ইন্ধনে হলো আমরা সেটার বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা ভিডিওগুলো দেখেন, কারা এসে আমাদের সাধারণ আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের ওপর হামলা করা হলে আমরা তার প্রতিবাদ করবই। অন্যায়ভাবে হামলার শিকার হয়ে আমরা চুপ করে থাকব না।”
আইনজীবী সমিতির এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা প্রথমে হামলা করেছে এবং সংঘর্ষের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ইন্ধন ছিল কি না। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে সঠিক দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে দলীয় নেতার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম, অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে ‘বিচার চাই’ অবস্থান দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আইনজীবীদের একটি অংশ বলছেন, আদালত অঙ্গনে এমন সংঘর্ষের ঘটনা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

