নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আড়াইহাজারের ছাত্রদল নেতা রিজভীকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে দশজনকে আসামি করা হয়েছে। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠে এসেছে মামলার এজাহারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহত জহিরুল ইসলামের ভাগনে ইসমাইল হোসেন সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
নিহত ফকির জহিরুল ইসলাম কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাসের পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন তিনি।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার কারণে জহিরুলকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে রিজভী ও তাঁর অনুসারীরা জহিরুলের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর একই বছরের ২৯ নভেম্বর জহিরুল বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
বাদীর দাবি, ওই মামলার আসামিসহ অন্য অভিযুক্তরা পরবর্তী সময়েও জহিরুলকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে অন্যত্র বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যে এলাকায় গিয়ে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন।
এজাহারে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে সোনারগাঁয়ের চর হোগলার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে তাঁর পথ আটকে দেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, এ সময় রিজভীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের ওপর হামলা চালান। তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান হামলাকারীরা।
পরে স্বজনেরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পথে জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম এবং তাঁর শরীরে আঘাতের বিবরণ জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক বলেন, জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

