নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বর থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেট কার উদ্ধারের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ গাড়ি চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে চুরি হওয়া আরও দুটি গাড়িসহ মোট তিনটি চোরাই প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ জুন সকাল প্রায় ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে পার্কিং করে রাখা একটি প্রাইভেট কার চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ফতুল্লা থানা পুলিশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তদন্তের মাধ্যমে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সংঘবদ্ধ গাড়ি চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আদালত চত্বর থেকে চুরি হওয়া গাড়িটিসহ মোট তিনটি চোরাই প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে দুটি বিভিন্ন সময় কুমিল্লা এলাকা থেকে চুরি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক গাড়ি চুরি ও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালত, মার্কেট, হাসপাতাল ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পার্কিং করা গাড়ি টার্গেট করে চুরি করত। পরে সেসব গাড়ি অন্য জেলায় নিয়ে গিয়ে নম্বরপ্লেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবর্তন করে বিক্রি করত।
তিনি বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে গাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে এবং গাড়ি চুরি প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

