নারায়ণগঞ্জে যুবদলের দুই নেতা মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার ও মাসুদুর রহমান মাসুদের ওপর থেকে সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মাসুদুর রহমান মাসুদ ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে গত ৮ জুন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল। ওই সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে ৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান লিসানকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে আনোয়ারের বিরুদ্ধে। লিসানের অভিযোগ ছিল, দোকান নির্মাণের সময় তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি ডাকাতি মামলায় আনোয়ারের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদকে গত ১০ এপ্রিল দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগের দিন ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক শিশুসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন।
তৎকালীন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি কাজে লাগিয়ে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মাসুদ। তাঁর দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সূত্রপাত হয়।
বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কারের পর এবার দুই নেতাকে পুনরায় নিজ নিজ পদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও ফতুল্লায় সংগঠনটির কার্যক্রমে তাঁদের আবারও সাংগঠনিক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হলো। তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় যুবদলের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।

