নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বাড়ৈইপাড়া এলাকায় ২০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জয়নাল আবেদীন মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জয়নালসহ আরও তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
২৫ অক্টোবর জমি নিয়ে বিরোধ, হুমকি ও সম্পত্তি দখলের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগটি দেন আব্দুর রহমান। একই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়ও একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোদনাইল মৌজার আরএস ১২৪২ নম্বর দাগে ২০ শতাংশ জমির মালিকানা আব্দুর রহমানের পরিবারের ছয় ভাই ও তিন বোনের। তাঁদের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিটি তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ব্যাংকঋণ নেওয়ার কথা বলে ২০০৫ সালের ২৮ মার্চ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমমোক্তারনামা দলিল নেন তাঁদের ভাই জয়নাল আবেদীন মন্ডল (৫০)। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই দলিলের ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর জয়নাল নিজেই সেই অর্থ ভোগ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই জমির ওপর নিজের মালিকানা দাবি করে তা দখল ও বিক্রির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুর রহমান।
আব্দুর রহমানের দাবি, আমমোক্তারনামা দলিল বাতিলের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও জয়নাল তাতে সম্মত হননি। উল্টো জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০২৫ সালে ৮৭/২০২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিটি অন্যের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন জয়নাল। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রহমান।
পরিবারটির দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি জমির মালিকানা ও দখল হারানোর আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
এ অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আব্দুর রহমান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জয়নাল আবেদীন মন্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফলও জানা যায়নি।

