নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ওসমান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য আজমেরী ওসমানের নাম। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ব্যানার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর ছবি ব্যবহারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনীতিতে আজমেরী ওসমানের অবস্থান আসলে কোন দলে? তিনি কি তাঁর বাবা প্রয়াত নাসিম ওসমানের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন, নাকি চাচা শামীম ওসমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন?
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ত্বকী হত্যা সহ একাধিক হত্যা মামলার আাসমী আজমেরী ওসমান বাবা, চাচা এমপি থাকায় কাউকে মানতেন না তিনি। এরই মধ্যে এসব রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে আজমেরী ওসমানের নামও বিভিন্নভাবে আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময় তাঁর অনুসারীদের যুবলীগের ব্যানারে কর্মসূচিতে অংশ নেন সেখানে তারা আজমেরী ওসমানের নির্দেশে সকল কর্মসূচি পালন করেন। তবে কি যুবলীগের রাজনীতিতে আজমেরী ওসমানের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
আজমেরী ওসমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের জটিলতার অন্যতম কারণ তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস। তাঁর বাবা প্রয়াত এ কে এম নাসিম ওসমান ছিলেন জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একাধিকবারের সংসদ সদস্য। অন্যদিকে তাঁর চাচা শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। অর্থাৎ একই পরিবারের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ধারার উত্তরাধিকার আজমেরী ওসমানের সামনে রয়েছে একদিকে জাতীয় পার্টি, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ।
২০২৩ সালের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর নেতৃত্বে বা তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল ও গাড়িবহর নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে এবং বিএনপি-জামায়াতবিরোধী কর্মকান্ডে তার বহর নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকতেন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে তাঁর পারিবারিক পরিচয় জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হলেও মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর দৃশ্যমান উপস্থিতির নজিরও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ওইদিন আজমেরী ওসমানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।এরপর দীর্ঘ সময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের দৃশ্যমান তৎপরতা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বিভিন্ন ঝটিকা কর্মসূচি ও রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে আজমেরী ওসমানের নাম আবারও আলোচনায় আসতে শুরু করে।
আজমেরী ওসমানের বাবা নাসিম ওসমান ছিলেন জাতীয় পার্টির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আজমেরী ওসমানের সম্পৃক্ততার প্রশ্ন রয়েছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক মাঠের তৎপরতা সেগুলোর বড় অংশেই আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের ব্যানার, স্লোগান কিংবা আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ এসেছে। এ কারণে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের চেয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর নাম নিয়েই বর্তমানে বেশি আলোচনা হচ্ছে ।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি আজমেরী ওসমানের রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়?
বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে জাতীয় পার্টি তাঁর জন্য একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিচয়। আবার পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘ সম্পর্ক। অতীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগের ব্যানারে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।
তবে এখন পর্যন্ত আজমেরী ওসমানের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্নটি এখনো খোলা নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান কি বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে জাতীয় পার্টির পতাকা হাতে নেবেন, নাকি চাচা শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করবেন?
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আগামী দিনের নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আজমেরী ওসমানের অবস্থানকে সবচেয়ে স্পষ্ট করে তুলবে।

