দর্শকে ঠাসা এক রুমে এলেন ক্রিশ্চিয়ানোর রোনালদো। আর সেখানে প্রবেশ করেই জানালেন, তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। এরপরও তাই করলেন যেটা গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে করে আসছেন। মঞ্চে উঠে থাকলেন সবার কেন্দ্রবিন্দুতে। জবাব দিলেন সমালোচকদের। একসঙ্গে জানিয়ে দিলেন এখনও ক্যারিয়ারের শেষ বাঁশি বাজেনি।
গতকাল বুধবার পর্তুগাল ফুটবল সামিটের মূল মঞ্চে কথা বলেন তিনি। আজ ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে তিনি বলেন, দেশের জন্য এখনো তার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। এ সময় জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে হোর্হে জেসুসের প্রথম ম্যাচ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
ফিফা বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয় শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে। এরপর রবার্তো মার্তিনেজের স্থলাভিষিক্ত হন জেসুস।
এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ৯৭৯ গোল করেছেন রোনালদো। এরমধ্যে ৮৩৩ গোল ক্লাবের এবং ১৪৬ জাতীয় দলের জার্সিতে। এক হাজার গোলের মাইলফলক থেকে আর মাত্র ২১ গোল দূরে অবস্থান করছেন তিনি। নেশন্স লিগ জেতা নাকি হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো — কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেসে দুটোকেই বেছে নেন তিনি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলেন, ‘দুটিই অর্জন করাই লক্ষ্য। ১ হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো এবং জাতীয় দলের হয়ে এই নেশনস লিগ জেতার চেষ্টা করা। কোচ হোর্হে জেসুসকে নিয়ে এটি একটি নতুন যুগ। আমরা সবাই তাকে ভালোভাবে চিনি। আমি শুধু আশা করি, তার সময়টা ভালো কাটবে।’
পর্তুগালের জার্সিতে ১ হাজার গোল পূর্ণ করতে পারলে সেটিকে ক্যারিয়ারের ‘মুকুটের শেষ পালক’ হিসেবে দেখবেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার ১ হাজারতম গোল করা হবে একটি অধ্যায়ের পরিপূর্ণতা একটি সুন্দর গল্প। তবে সেটি এর শেষ হবে না, কিন্তু অবশ্যই একটি সুন্দর গল্প হবে।’
বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ভাবনাচিন্তা করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন রোনালদো। তবে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন ও হোর্হে জেসুসের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রোনালদো বলেন, ‘তারা আমাকে চায়। আমিও এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে সাহায্য করার সামর্থ্য আমার আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাঠে গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।’
আইএন

