দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে দর্শক উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। পাঁচ দিনে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছেন ২০ হাজারেরও কম দর্শক। এমন পরিস্থিতিতে দর্শক খরার কারণ খুঁজতে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর অস্ট্রেলিয়া টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল। দুই দলের এমন লড়াই ঘিরেও দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কোয়াজুলু-নাটাল ক্রিকেট ইউনিয়নের প্রধান নির্বাহী হাইনরিখ স্ট্রাইডম।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিনে ২০ হাজারেরও কম দর্শক মাঠে এসেছেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের হতাশা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এমন মানের একটি টেস্ট ম্যাচ গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক পাওয়ার যোগ্য ছিল। এ নিয়ে আমরা বিস্তারিত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করব।’
দর্শকদের মাঠে ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্ট্রাইডম আরও বলেন, ‘আমাদের সমর্থকদের কথা শুনতে হবে, নিজেদের কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে এবং টেস্ট ক্রিকেটকে আরও সহজলভ্য, আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তোলার উপায় খুঁজতে হবে। টেস্ট ক্রিকেট আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের অংশ। এর ভবিষ্যৎ আমাদের সবার ওপর নির্ভর করছে।’
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক উপস্থিতি কমছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই প্রবণতা বেশি চোখে পড়ছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরাসরি খেলা দেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ যে একেবারে কমে যায়নি, ডারবানের আরেকটি ঘটনা সেটিই তুলে ধরেছে।
অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট চলার সময়ই ডারবানে অনুষ্ঠিত হয় ফুটবল কাপের ফাইনাল। অরল্যান্ডো পাইরেটস ও মামেলোডি সানডাউনসের সেই ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ৫০ হাজারের বেশি দর্শক। অথচ ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের লড়াইয়ে দর্শকসংখ্যা ছিল তার অর্ধেকেরও কম।
স্ট্রাইডমের মতে, দর্শকদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের নানা সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘কোন বিষয়গুলো দর্শকদের মাঠে আসার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে। পাশাপাশি সরাসরি ক্রিকেট দেখার অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও আকর্ষণীয় ও সার্থক করে তোলা যায়, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে।’
এদিকে, ডারবানে প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। রোববার গকেবেরহায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সেই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে অস্ট্রেলিয়া।
২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেছে অস্ট্রেলিয়া দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সিরিজের প্রথম টেস্টে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কর্তাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।

