নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত সিএনজি চালক জামাল হত্যা মামলায় মো. মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’কে মৃত্যুদণ্ড এবং মো. আকাশ আহম্মেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রঞ্জুকে ২০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আকাশকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার সুমি এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোড এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে। তার বয়স ৪৪ বছর। অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আকাশ আহম্মেদ সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকার মো. শরীফ আহম্মেদের ছেলে। তার বয়স ৩৭ বছর।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুল হক হান্টু জানান, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রেসিডেন্ট রোড এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জামালকে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দী করে একটি পরিত্যক্ত ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে রাজি না হওয়ায় জামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর র্যাব-১১ সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের ভিত্তিতে রঞ্জুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত রঞ্জুকে মৃত্যুদণ্ড এবং আকাশকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও দাবি করেন, মনিরুল ইসলাম রঞ্জু জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তার মুখমণ্ডলে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে পরিবর্তন আনার অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রঞ্জু বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের রায়ে কী পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তা জানতে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর আলোচিত জামাল হত্যা মামলার রায় ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় এনে আদালতের দেওয়া সাজা দ্রুত কার্যকর করা হবে।

