নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ অভিযান, কমিউনিটি পুলিশিং ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বিত কার্যক্রমে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর প্রশংসা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে দাবি জেলা পুলিশের।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলার প্রবেশপথ, বাসস্ট্যান্ড, নদীবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এলাকায় নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাত-দিন টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে জেলায় মাদক মামলা ও কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে। একই সময়ে এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যাও কমেছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের দাবি, আগের তুলনায় সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা বেড়েছে। স্কুল-কলেজের সামনে কিশোরদের আড্ডা ও উৎপাতও কমেছে। জেলা পুলিশের এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ অপরাধ প্রবণতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখতে পারে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। আগামীতে ডিজিটাল মনিটরিং, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

