নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের জন্য তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। অবৈধ সংযোগের ঘটনায় মামলা হলে তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আসামি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন এমপি মান্নান।
তিনি বলেন, সোনারগাঁয়ে প্রায় ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিতাস কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অবৈধ গ্যাস লাইনের জন্য যদি মামলা দেওয়া হয়, তাইলে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের এক নম্বর আসামি করবেন, তাইলে দেখবেন সব কইমা গেছে।”
এ সময় তিতাসের কর্মকর্তাদের সোনারগাঁয়ে প্রবেশ নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কিন্তু সত্যি কথা, আমার থানায় অর্ডার দিয়া দিছি—যারা তিতাস গ্যাসের অফিসার যাইবো তাদের আগে পিটানোর জন্য। তারা অবৈধ সব কাজ করে।”
এদিকে নদীপথে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীপথে বাল্কহেড প্রবেশের আগেই চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করে তিনি এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নদীপথে বালুবাহী বাল্কহেডগুলো ঢোকার আগেই চাঁদা নেওয়া শুরু হয়। এমনকি মোবাইলের মাধ্যমে চাঁদা দেওয়ার কথাও শোনা যায়। এর সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাদের বাড়ি গোপালগঞ্জে, তাদের তালিকাও চেয়েছেন এমপি মান্নান। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে ‘গোপালী’ বা গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

