নারায়ণগঞ্জ নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় শ্রম আইন অনুযায়ী অর্জিত বাৎসরিক ছুটির টাকা, ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আনোয়ারা গ্রুপের শ্রমিকরা। প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধের ফলে চাষাঢ়া-শিমরাইল সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। পরে শিল্প পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রম আইন অনুযায়ী অর্জিত ছুটির অর্থ ও ঈদ বোনাস তারা পাচ্ছেন না। একই প্রতিষ্ঠানের গাজীপুর কারখানার শ্রমিকদের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ কারখানার শ্রমিকদের কম অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কারখানার শ্রমিক আল আমিন জানান, গাজীপুর কারখানার শ্রমিকরা যেখানে অর্জিত বাৎসরিক ছুটির জন্য প্রায় ৭ হাজার ৪০০ টাকা পান, সেখানে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া শ্রম আইন অনুযায়ী ঈদ বোনাস বেতনের সমপরিমাণ হওয়ার কথা থাকলেও সেটিও কম দেওয়া হচ্ছে। এসব বৈষম্যের প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান তিনি।
অবরোধের কারণে চাষাঢ়া থেকে কিল্লারপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেক যানবাহনকে বিকল্প হিসেবে খানপুর ও বিবি মরিয়ম স্কুলসংলগ্ন সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসন ও বিকেএমইএর কাছে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আনোয়ারা গ্রুপের সব কারখানায় সমান হারে অর্জিত বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধ, মূল বেতনের সমপরিমাণ ঈদ বোনাস প্রদান এবং দীর্ঘদিন চাকরি শেষে অবসর নেওয়া শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা তাদের ১১ দফা দাবি তুলে ধরলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও জানান, দাবি আদায়ে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রমিকরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। সে সময় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেন, বিক্ষোভ চলাকালে এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা গ্রুপের বক্তব্য জানতে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও দেননি।

