নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার দুই দিন পর রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই রাত ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় আহসান ভিলার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলুল হক জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ফজলুল হকও উভয় পক্ষকে ঝগড়া না করার পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নোবেল তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। পরে নোবেল, রবিনসহ কয়েকজন মিলে ফজলুল হককে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই তিনি বাসায় ফিরলেও পরদিন সকালে হঠাৎ রক্তবমি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের মেয়ে ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা। ওই মামলায় আপসের জন্য আসামিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল শেখ ওই মামলার আসামিপক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তারা ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

