ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে সমর্থকদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির লক্ষ্যেই বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিও ও প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীদের বক্তব্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা দ্রুত ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্ট দেশের অভ্যন্তরে থাকা দলীয় সমর্থকদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঘিরে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এটি বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে শেয়ার হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
এক সময় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিতেন এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির নানা দাবি করতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে আর দেখা যাচ্ছেন না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এক সময় যেসব নেতা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন, বর্তমানে তাদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের বহু কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা দেশ ছাড়েন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় হত্যা, হামলা ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। ফলে দেশে ফিরে এলে আইনগত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে আসছেন না বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই বর্তমানে বিদেশে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত, অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, শাহ নিজাম, জাকিরুল আলম হেলাল, কাউসার আহমেদ পলাশ, নাজমুল আলম সজল, এম এ রশীদসহ আরও অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে গেলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব প্রচারণার বাস্তব প্রভাব কতটা, তা সময়ই বলে দেবে।

