কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। বাড়িঘর, সড়ক ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। একই সঙ্গে ঠান্ডাজনিত, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে উপজেলার কাঞ্চন, তারাবো, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরপা, রূপসী, নরাবো, কালাদী, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বিজয়নগর, মদিনানগর, তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, যাত্রামুড়া, মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা, ইসলামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির উঠোনে হাঁটুসমান এবং বসতঘরে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য মিশে জলাবদ্ধ পানির রং কালো হয়ে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই পানিতে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া জলাবদ্ধ পানির কারণে মাছ ও জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর পানি নিষ্কাশনের খাল অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌর এলাকা, ভুলতা ও মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল দখল এবং ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, “ঘরে-বাইরে সব জায়গায় পানি। রান্না করতে কষ্ট হচ্ছে, বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। অনেক ভাড়াটিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।”
তেঁতলাবো এলাকার মোবারক হোসেন বলেন, “১৪-১৫ বছর ধরে একই দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছর একই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।”
কালাদী এলাকার আলী হোসেনের অভিযোগ, খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায় এবং জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বাদল কুমার সাহা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে জলাবদ্ধ ও দূষিত পানি এড়িয়ে চলা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রূপগঞ্জের হাজারো মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

