নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখলের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব অপকর্মে কেউ জড়িত হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ হোসিয়ারি সমিতি প্রাঙ্গণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ২৭টি ওয়ার্ড ও বন্দর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আপনারা কেউ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়াবেন না। সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমি নিজেও যদি কোনো অপরাধে জড়াই, তাহলেও আমাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। অতীতে যেসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব থেকে বিএনপিকে দূরে রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, একটি মহল বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে বিরোধীরা সেই সুযোগ নিতে পারে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থেকে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও নানা সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী এক বছরে নারায়ণগঞ্জবাসী দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন। দীর্ঘ সময়েও যেসব উন্নয়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনিয়োগের প্রস্তাবও এসেছে। সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

