নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে রমজান (পূর্ণ নাম জানা যায়নি) নামে এক কথিত শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন রমজান। বুধবার রাতে পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পানি আক্তারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রমজান এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলারও তিনি আসামি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রমজান বড় বড় মাদকের চালান এনে তার সহযোগীদের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির ব্যবস্থা করতেন। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর অভিযানে তার মা আয়েশা বেগম গ্রেপ্তার হলেও রমজান তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রমজানের গ্রেপ্তারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয়দের মতে, আদমজী বিহারী ক্যাম্পসহ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। তাদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য তরুণ ও শিক্ষার্থী অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ভয়ংকর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। রমজানের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

