নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বাস আটকে রাখা ও পরিবহনশ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। পরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হলে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।
বুধবার দুপুরে শহরের ১ নম্বর রেলগেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সিটি বন্ধন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুব উল্লাহ তপন তাদের এক পরিবহন মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় মিশনপাড়া এলাকায় একটি বাস আটকে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন পরিবহনশ্রমিককে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদেই তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখেন।
মহানগর শ্রমিক দলের সদস্যসচিব ফারুক হোসেন বলেন, এর আগেও চাঁদার দাবিতে একটি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাও একই ধরনের হওয়ায় এর প্রতিবাদে তারা ধর্মঘটের কর্মসূচি পালন করেন। পরে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুব উল্লাহ তপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে যান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ হয়েছিল। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

