জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল বেশ সরগরম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচার- প্রচারণার সময় ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদের অধিকাংশকেই আর রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির পদধারী ও সাবেক নেতাদের একটি অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। প্রচারণার সময় তারা এলাকার উন্নয়ন, জনগণের পাশে থাকা, এলাকার সমস্যা সমাধান এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর তাদের অনেকেই জনসম্মুখে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আর দেখা যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, শিল্পপতি শাহ আলম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন। নির্বাচন চলাকালে তাদের ব্যাপক প্রচারণা থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। তবে তাদের দুইজনকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে । বিএনপির সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনাও ব্যাপক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুরও নির্বাচনের সময় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদেরও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রম আগের মতো চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনি ব্যাপক আকারে প্রচার-প্রচারনা চালায় এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে আবার নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চাইলে দল থেকে তাকে আর দলীয় মনোনয় দেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামকে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। অপরদিকে শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুলকেও দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি তবে তিনি এর আগে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নানা ধরনের উন্নয়নের আসা দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা অনেকটাই সীমিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এসব প্রার্থী নিয়মিত এলাকায় গিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিয়েছেন, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচিত হলে সবসময় জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদের অনেকেরই আর কোনো খোঁজ মিলছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে অনেক নেতা ভোটের সময় মাঠে সক্রিয় থাকলেও ফল ঘোষণার পর তাদের একটি অংশ জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। এতে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কম দেখা গেলেও তারা নিজ নিজ সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সময়মতো আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হবেন বলেও তাদের দাবি।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে এসব নেতা আবার কবে জনগণের কাছে ফিরবেন, নাকি নির্বাচনকেন্দ্রিক সেই তৎপরতাই ছিল সাময়িক। ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। তারা বলেন নির্বাচন শেষ তারাও উধাও, নির্বাচনের নামে তারা ব্যবসা করতে আসছে।

