নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া গত ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে থাকায় হলটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় ভবনটির অংশবিশেষ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে শহীদ জিয়া হলকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন নগরবাসী একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র পাবে, অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হল দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান টাউন হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ১৯৮১ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নামকরণ করেন ‘শহীদ জিয়া হল’ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠির পর শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মাণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

