নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক সন্দেহে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করে লাশ ডিএনডি ক্যানেলের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি। প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- আজিম হোসাইন (২৭), তার স্ত্রী নুসরাত জাহান মিম (২৪) এবং ফয়সাল (২৭)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরীর চাষাঢ়া এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্র ইয়াছিন আরাফাত (১৭)। দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন হত্যা মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ সময় তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত ইয়াছিন ছিল মিমের ফুপাতো ভাই। ২০১৭ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২০ সালে বিয়ে করেন আজিম ও মিম। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে মিমের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ইয়াছিনের সঙ্গে কথোপকথন দেখে তাকে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে সন্দেহ করতে থাকেন আজিম। যদিও মিম বারবার ইয়াছিনকে তার ফুপাতো ভাই বলে দাবি করেন, তবুও সন্দেহ কাটেনি আজিমের।
এর জের ধরে বন্ধু ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। ঘটনার দিন মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বের হলে কৌশলে ইয়াছিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় তারা। পরে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ডেমরা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিরআখড়া থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে মিমকে আটক করা হয়। আদালতে আজিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। রিমান্ড শেষে অপর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ইয়াছিনের মা আফরিনা নাসরিন বলেন, “আমার ছেলে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। পড়াশোনা আর নামাজ নিয়েই থাকত। যারা আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

