ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হকারদের আন্দোলন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্দোলন এখন অনেকটাই মারমুখি রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৩ এপ্রিল নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলে কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে বামপন্থী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমর্থন নিয়ে পুনর্বাসনের দাবিতে হকাররা আবারও বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল শুরু করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল হকাররা মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে বিকেলে তারা ফুটপাতে বসার চেষ্টা করলে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় হকারদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্ছেদকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর নগরজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রথমদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ১৩ এপ্রিল থেকে নগরীতে পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহর হকারমুক্ত রাখা হবে এবং কোনোভাবেই জনগণকে হকারদের কাছে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, হকারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য চানমারী মোড় থেকে হাজীগঞ্জ মাজার পর্যন্ত এলাকাকে সম্ভাব্য পুনর্বাসন স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।ঈদের আগে সাময়িকভাবে বসার দাবির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে শর্ত ভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন টিপু।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। আগে আমাকে আমরা শহরকে নাগরিকদের বসবাসের উপযুক্ত করব। পরবর্তীতে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচনায় আসবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হকারদের আন্দোলন যেভাবে ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে, তাতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
হাকারা বিভিন্ন সমাবেশে বলেন, গত ১৩ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন কোনো ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই মহানগরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে হঠাৎ করেই হাজারো হকার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও দাবি করেন তারা।

