ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক মামলায় জামিন এবং নতুন করে গ্রেপ্তার বা শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখানোর উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর তার মুক্তির পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।
জামিন চেয়ে আইভীর করা পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওই দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে এক মামলায় গত ২ মার্চ এবং অন্য মামলায় ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক মেয়র আইভীর পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতাদেশ নিয়ে আগামী ৩ মে আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
অন্যদিকে, গত ২৬ এপ্রিল আইভীকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি, আসামি করা কিংবা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। পরে আইনজীবী সাজু জানান, আইভী ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। পরবর্তীতে আরও দুটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলে সেই বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আইভীকে নতুন কোনো মামলায় আসামি করা বা পুরনো মামলায় নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যাবে না। ফলে এখন তিনি বিদ্যমান মামলাগুলোতে জামিন পেলেই মুক্তি পেতে পারেন বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক রাজনৈতিক নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই জামিনের পর নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আইভীর ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনা তাকে আইনি লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে পুলিশ সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলেও তা পরে আপিল বিভাগে স্থগিত হয়।
পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিন স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভী ছিলেন ১২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

