ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন ও তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর পেছনে ওসমান পরিবারের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, অতীতে এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ২০১৪ সালে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না, বরং স্বৈরশাসনের আবহে আইনজীবীদের নানা চাপের মুখে কাজ করতে হয়েছে। সে সময় নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো আইনি সহায়তা না দেওয়ার নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, সাত খুনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে আইনজীবীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে যেভাবে আইনি লড়াই চালানো হয়েছে, তা আইনজীবী সমাজের জন্য গৌরবের ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এমপি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে অতীতে সংঘটিত বহু আলোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছায়া ছিল। সাত খুন, ত্বকী হত্যা—এসব ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি, বরং অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আপিল বিভাগে ঝুলে থাকা সাত খুন মামলার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে বলেন, রায় কার্যকর হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের স্বস্তি পাবে এবং সমাজে বার্তা যাবে যে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্র ছিলেন, তখন সাত খুনের ঘটনা ঘটে। সে সময় একজন আইনজীবী ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও সত্য উদঘাটনে এগিয়ে এসেছিলেন। নানা চাপ সত্ত্বেও তিনি বিবেকের সঙ্গে আপস করেননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান, সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ জাকির, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি খোরশেদ আলম মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

