ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বাংলাদেশে গানম্যান ও বডিগার্ড পাওয়ার বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল—এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এটি কোনো ঢালাও অধিকার নয়, বরং সরকারের বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদিত একটি ব্যবস্থা। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তাঁর বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনা করে গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। অনেক সময় রাজনৈতিক ঝুঁকি বা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেও সরকার নিজ উদ্যোগে গানম্যান দিয়ে থাকে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাই
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিককে এ ধরনের নিরাপত্তা পেতে হলে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) তদন্ত করে দেখে যে আবেদনকারীর সত্যিই জীবননাশের হুমকি আছে কি না। এটি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রটেকশন বিভাগ অথবা স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে এই নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগ ও পরিচালনা
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, যাচাই প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের একজন প্রশিক্ষিত সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সরকারি অস্ত্র ও নির্দিষ্ট সংখ্যক গুলি বরাদ্দ থাকে। যেহেতু সরকার তাঁকে ওই কাজে নিয়োজিত করে, তাই তাঁর বেতন-ভাতা সরকারই বহন করে। তবে যার নিরাপত্তার জন্য তাঁকে দেওয়া হচ্ছে, তাঁর পছন্দ-অপছন্দকেও অনেক সময় প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার ভিডিপির সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কারা প্রটোকল অনুযায়ী গানম্যান পান?
রাষ্ট্রীয় পদাধিকার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান পান। এই তালিকায় রয়েছেন:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য
বিচারপতিবৃন্দ
উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা (সচিব বা সমপর্যায়ের)
সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, কোনো সাধারণ নাগরিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি মনে করেন তাঁর জীবন বিপন্ন, তবে তিনি আদালতের মাধ্যমেও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করতে পারেন। সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত।
এছাড়া অনেকে নিজস্ব বেতনভুক্ত লোক দিয়েও নিরাপত্তার কাজ করান। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাঁকে ‘রিটেইনার’ (ব্যবহারকারী) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও গানম্যান নেওয়া যায়, তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।

