অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় শারদীয় দুর্গাপূজা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গোৎসবের এই মানবিক মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পূজার আয়োজন ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক, পূজারি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, যুগ যুগ ধরে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। দেবী দুর্গার অসুরবধের মধ্য দিয়ে অন্যায়ের পরাজয় এবং ন্যায়ের বিজয়ের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা প্রত্যেকের জীবনে ধারণ করা উচিত। সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয় এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারলে সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবার অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
আমলাপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ড. আব্দুল মঈন খান নগরীর মিশনপাড়া এলাকার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আশ্রমের পরিবেশ ও দুর্গাপূজার আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, আমলাপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী প্রবীর সাহাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।

