ডাইং শিল্পে ব্যবহৃত ডাইস ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ে চাপে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের ডাইং শিল্পের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বর্তমান ডাইং চার্জ দিয়ে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম ডাইং চার্জ পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানায় বাংলাদেশ নীট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেডিওএ)।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ডাইং শিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরণ ডাইস ও কেমিক্যালের অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্য পরিবর্তন এবং ডলারের বিনিময়মূল্যের ওঠানামার কারণে আমদানি ব্যয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে।
তাঁদের ভাষ্য, একদিকে কাঁচামাল ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রচলিত ডাইং চার্জের সঙ্গে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকছে না। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং শিল্পের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ডাইং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ন্যূনতম ডাইং চার্জ পুনর্নির্ধারণ জরুরি। বাস্তব উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে শিল্পের সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ নীট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় ডাইস ও কেমিক্যালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং ডাইং শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক ও মামুনুর রশিদ মিঠু, বাংলাদেশ নীট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি জিএম হায়দার আলী বাবলু, সহসভাপতি এম নাসির উদ্দিন, পরিচালক মো. আনিসুল এহসান চৌধুরী, লিটন চন্দ্র পাল, মো. অহিদুর ইসলাম শহিদ, কে এম নুরুল ইসলাম বাবু, মিজানুর রহমান মিজান, মো. শাজাহান আলমসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্য।

