নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ডকইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ডকইয়ার্ডের মালিককে ধরে নিয়ে মারধর এবং তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডকইয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন অপর পক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বন্দরের নবীগঞ্জ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দী এলাকার এস এ হাইড্রোলিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস কোম্পানিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ডকইয়ার্ডের ম্যানেজার মো. ফায়েজ আহম্মেদ (৪২) বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এতে খন্দকার আমজাদ হোসেন (৫৫), তাঁর দুই ছেলে মো. হৃদয় (৩০) ও সুলতান মাহমুদ আপন (২৩), আরিফ (২৮)সহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ডকইয়ার্ডের প্রধান ফটকে হামলা চালিয়ে গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ডকইয়ার্ডের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেওয়া হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ফায়েজ আহম্মেদের দাবি, ঘটনার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান (৪২) অফিসে ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁকে জোর করে অফিস থেকে বের করে ফ্যাক্টরির বাইরে একটি বটগাছের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তজমাট জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ঝুটের গুদাম ও একটি ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছেন। এর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে ফ্যাক্টরি থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চাঁদার স্লিপ ও স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেউলী বটতলা এলাকার মো. আরিফ হোসেন (৫২) বন্দর থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শীতলক্ষ্যা নদীর জেলেপাড়া ঘাটে জাহাজ ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমনসহ কয়েকজন তাঁকে এবং আরও দুজনকে মারধর করেন।
আরিফ হোসেনের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে জেলেপাড়া ঘাটে গোসল করতে গেলে একটি জাহাজ ঘাটে ভেড়ানোর সময় তাঁকে জাহাজের নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। পরে লাঠি দিয়ে তাঁকে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হৃদয় ও আপন নামের আরও দুজনকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্দর থানার এসআই লুৎফর রহমান জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

