নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকিরকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর নিজ এলাকা আড়াইহাজার হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসি ছিল।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে জহির ফকিরের বিরোধ চলছিল। তাঁদের দাবি, এর আগেও তাঁকে হামলার শিকার হতে হয়েছিল। এই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিকের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ফার্মেসি থেকে ফেরার পথে জহির ফকিরের ওপর হামলা হয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনাটি ঘিরে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

