নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের মামলায় মো. আলমগীর ওরফে আলমগীর ড্রাইভারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি সোনারগাঁ থানার টিপুরদী এলাকায় মোবাইল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান কুমিল্লা থেকে ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া এলাকার মেনিখালী সেতু সংলগ্ন মদিনা টাওয়ারের সামনে ঢাকাগামী সড়কে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন একটি ব্যক্তিগত গাড়িকে থামার সংকেত দেওয়া হলে গাড়িতে থাকা দুজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ আলমগীরকে আটক করতে সক্ষম হলেও অপর ব্যক্তি পালিয়ে যান।
পরে আলমগীরের দেখানো ও উপস্থাপন করা মতে, নীল রঙের ওই ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতরে থাকা একটি কালো স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আলমগীরকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নজরুল ইসলাম মাসুম। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষের সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

