শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ-ব্যবসায়ী সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যমান সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, শিল্পাঞ্চলের নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই এবং বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারখানায় গিয়ে হয়রানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হয়।
পাশাপাশি নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। শিল্পকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে যানজটের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বৈঠকে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ ধরে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, নতুন পুলিশ সুপারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। নতুন পুলিশ সুপারের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা খাতের সমস্যাগুলোও তার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ এবং শিল্পাঞ্চলে বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে আরও সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহসভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, সহসভাপতি মো. সামসুজ্জামান, পরিচালক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মো. আবদুল হান্নান ও মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষে মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, হানিফ সরদার, মো. গোলাম সারোয়ার (সাঈদ), মো. মজিবুর রহমান ও আহমেদুর রহমান তনুসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

