ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার দাপা-শৈলকুড়িয়া উড়াল রেললাইন ব্রিজের নিচে বসানো কোরবানির পশুর কথিত অবৈধ হাট উচ্ছেদের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। পরে বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার সহযোগিতার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে একটি পশুর হাট পরিচালনা করছেন। তবে একই স্থানের পাশে অনুমোদন ছাড়াই আরেকটি পশুর হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা এলাকাবাসী মিলে এতিমখানার সহযোগিতার জন্য বৈধভাবে হাটের ইজারা নিয়েছি। কিন্তু পাশে আরেকটি অবৈধ হাট বসানো হয়েছে। এতে জনভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।”
বৈধ হাটের ইজারাদার মো. শাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, “প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা হাট পরিচালনা করছি। কিন্তু বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি পক্ষ কোনো অনুমোদন ছাড়াই পাশেই আরেকটি হাট বসিয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. মশিউর রেজা সজীব বলেন, “অবৈধ হাট উচ্ছেদের দাবিতে আমরা সড়ক অবরোধ করেছিলাম। পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করেছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে নামব।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাটের ইজারাদার ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিন দাবি করেন, “যেখানে হাট বসানো হয়েছে সেটি রেলওয়ের জায়গা। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই হাট পরিচালনা করছি।” তবে এ সময় তিনি অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

