ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু আবারও বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা সেন্টুর পুনরায় বিএনপিতে ফেরার তৎপরতায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত ১৬ মে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সেন্টুকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এসময় তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সেন্টু সেই সময়েও প্রভাব ও সুবিধার মধ্যে ছিলেন। এখন আবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নেতৃত্বের পর্যায়ে আসার চেষ্টা করছেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, “যারা দুঃসময়ে দলের পাশে ছিল না, বরং আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় সুবিধা ভোগ করেছে, তাদের পুনরায় বিএনপির নেতৃত্বে আনা হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে এবং বিএনপির বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
তারা আরও বলেন, দলের দুর্দিনে যারা নির্যাতন-হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্ব দিলে তৃণমূলের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বিএনপির দুঃসময়ে দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সেন্টু এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবার বিএনপির ব্যানারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ কাজে ফতুল্লার কয়েকজন বিএনপি নেতাও তাকে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুতুবপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরেই একে এম শামীম ওসমান-ঘনিষ্ঠ বলয়ে সক্রিয় ছিলেন সেন্টু। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।২০১৮ সালে শামীম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারনে মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই শিবিরেই আলোচনা ছিল। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে “শামীম ওসমানের চমক” হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির রাজনীতি দিয়ে উত্থান হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন সেন্টু। এরপর তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে “নৌকার জনপ্রতিনিধি” ও “শামীম ওসমানের শিষ্য” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার পোস্টার লাগিয়ে পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আবার দলে ফিরিয়ে নেয়। তার এ বহিষ্কারদেশ প্রত্যাহার করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি ও জোট প্রার্থী মাওলানা মনির হোসেন কাসেমী।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, “দলের সংকটের সময়ে যারা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সুবিধা নিয়েছে, তারা এখন আবার বিএনপিতে ঢোকার চেষ্টা করছে।” এ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন করা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ও ফতুল্লা এলাকার বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সেন্টুর পুনরায় বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

