ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় সবখানেই এক প্রশ্ন, “আগামী দিনের মেয়র কে?” ক্ষমতার পালাবদল, দলীয় কৌশল, জনপ্রিয়তার হিসাব আর নতুন মুখের সম্ভাবনা সব মিলিয়ে এবারকার নির্বাচন হতে পারে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানো হলে যে কোনো সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেন। দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব পালন এবং নগরবাসীর একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে আইভী এখনও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর।
অনেকের মতে, আইভী নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না। বিশেষ করে উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁকে এখনও শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তবে তাঁর বিরোধীরা বলছেন, সময় বদলেছে, রাজনৈতিক সমীকরণও এখন ভিন্ন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দলটির ভেতরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
আলোচনায় রয়েছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি প্রশাসক এড. শাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জাম মাসুদ, প্রাইম বাবুল, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারন সম্পাদক এটি এম কামাল, মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মাসিকুল ইসলাম রাজিব, ১৩নং ওর্য়াড সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজদের ছোট ভাই রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।
তৃণমূলের একাংশ চাইছে পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নতুন মুখ, আবার আরেক অংশ অভিজ্ঞ নেতাকেই দেখতে চায়। বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে—একজন এমন প্রার্থী নির্ধারণ করা যিনি আইভীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-ও মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। তরুণ ভোটার, পরিবর্তন প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির নতুন বাস্তবতায় এসব দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। যদিও সিটি নির্বাচনে তাদের সাংগঠনিক শক্তি এখনও বড় দুই দলের তুলনায় সীমিত, তবে ভোটের হিসাব পাল্টে দেওয়ার মতো প্রভাব তারা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিষয় হবে “ইমেজ বনাম সংগঠন”। একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি প্রার্থী হবেন, নাকি শক্তিশালী দলীয় কাঠামো বিজয় নিশ্চিত করবে—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ভোটের মাঠে।
এছাড়া তরুণ ভোটারদের ভূমিকা, নগর উন্নয়ন, যানজট, জলাবদ্ধতা, খাল উদ্ধার, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার প্রশ্নও নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তরুণদের একটি বড় অংশ এবার পরিবর্তনের বার্তা দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই বাড়বে আলোচনা, সমীকরণ আর সম্ভাবনার হিসাব। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত কে হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটির ‘গেম চেঞ্জার’?

