ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় এক যুগ পার হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারিক প্রক্রিয়া। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা সেই ঘটনায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিলেও এখনো আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে দণ্ডিত আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে একই বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করে। বাকি সাজাগুলোও বহাল থাকে। এরপর দণ্ডিতরা আপিল করলে মামলাটি আপিল বিভাগে যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আপিল শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি এখনো আপিল বিভাগের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধান দণ্ডিত আসামিরা এখন কোথায়
নুর হোসেন
সাত খুন মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়ে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সাত খুন মামলার পাশাপাশি ২০২২ সালে একটি অস্ত্র মামলায়ও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তারেক সাঈদ মোহাম্মদ
তৎকালীন র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরি হারান এবং মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন বলে জানা যায়।
মাসুদ রানা
তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মাসুদ রানা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন।
আরিফ হোসেন
মেজর (অব.) আরিফ হোসেনও মামলার অন্যতম দণ্ডিত আসামি। তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অন্যান্য দণ্ডিতরা
মামলার অন্য দণ্ডিতদের মধ্যে সাবেক র্যাব সদস্য, সহযোগী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন। অনেকে মৃত্যুদণ্ড এবং অনেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তারা বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত অবস্থান প্রকাশ করে না।
নিহত পরিবারের ক্ষোভ
রায় ঘোষণার বহু বছর পার হলেও কার্যকর না হওয়ায় হতাশ নিহতদের পরিবার। তারা বলছেন, বিচার পাওয়া গেলেও ন্যায়বিচার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনও করেছেন স্বজনরা।
জনমনে প্রশ্ন
এক যুগ পরও কেন শেষ হয়নি দেশের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড গুলোর একটির বিচার? কেন এখনো কার্যকর হয়নি দণ্ড? এই প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে। সাত খুনের রক্তাক্ত স্মৃতি আজও শীতলক্ষ্যার বাতাসে ভেসে বেড়ায়, আর স্বজনরা অপেক্ষা করছেন শেষ বিচার দেখার।

