ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আহ্বায়ক ও আংশিক কমিটি নির্ভর কাঠামোয়। একের পর এক কমিটি ঘোষণা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে দেখা গেছে ধীরগতি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তহীনতা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি এবং ২০২৩ সালে পুনর্গঠিত নতুন আহ্বায়ক কমিটির পরও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
২০২২ সালের ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদল নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় গোলাম ফারুক খোকনকে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হন ভিপি কবির হোসেন এবং সদস্য সচিব করা হয় মশিউর রহমান রনিকে। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এ কমিটির অনুমোদন দেন।
তৎকালীন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বরং সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে কয়েকজন নেতার মধ্যেই।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট আবারও আগের আংশিক কমিটি ভেঙে নতুন তিন সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হন সাদেকুর রহমান সাদেক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হন খায়রুল ইসলাম সজীব এবং সদস্য সচিব হিসেবে বহাল থাকেন মশিউর রহমান রনি।
এ কমিটি ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রায় দুই বছর অতিক্রম হলেও জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও ঘোষণা হয়নি বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিও ঝুলে আছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, পদ বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সাংগঠনিক জবাবদিহিতা কমে গেছে। ফলে রাজপথের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।
তাদের ভাষ্য, জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় আন্দোলন-সংগ্রামেও কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটি নির্ভরতা এখন বড় সাংগঠনিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাস্তবে তা বছরের পর বছর বহাল থাকছে। এতে নেতৃত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জেলায় পূর্ণাঙ্গ যুবদল কমিটি না হওয়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্যও প্রশ্ন তৈরি করছে।
২০২২ সালে প্রথম আহ্বায়ক কমিটি, ২০২৩ সালে পুনর্গঠিত নতুন কমিটি কিন্তু ২০২৬ সালেও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল কি পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাবে? নাকি আংশিক কমিটির রাজনীতিই চলবে আরও দীর্ঘ সময় এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

