ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ গত ১৩ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই মহানগরের ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালায়। এতে হঠাৎ করেই হাজারো হকার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর এটাই পুঁজি করে মাঠে নেমেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। বাম নেতারা সামনের সাঁড়িয়ে থাকলেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মী।
শহরে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে হকার নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে, কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
শহরের হকারদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, আমরা এখন বিপদে আছি বিভিন্ন দলের লোকজন এসে বলছে আবার ফুটপাত বসবে দিবে শুধু টাকা লাগবে। আমরা জানি না কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা বলছে।আমরা গরীব মানুষ প্রতি দোকান বসাতে তাদের দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা করে তাহলেই নাকি দোকান আবার বসাতে পারবো। তবে তাদের এ অভিযোগের ব্যাক্তিদের নাম বলতে রাজি হয়নি। তারা আরও বলেন ফুটপাত নিয়ে এখন রাজনীতি চলছে কে কত টাকা নিবে। তবে আমরা রাজপথে নেমেছি দাবী আদায় করে বাড়ি ফিরবো।
তবে বিএনপি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের প্রশাসক এড. শাখাওয়াত হোসেন খান উচ্ছেদ নিয়ে যে কঠোর অবস্থা নিয়ে আছেন তাতে শহরে হকার বসা কঠিন হয়ে পড়বে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চাষাঢ়া শহীদ মিনার থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাম নেতাদের নেতৃত্বে মিছিলটি নিতাইগঞ্জ এলাকার সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হকাররা জানান, সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, “আমরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নই, তবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।” অথচ উচ্ছেদ অভিযানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হকার ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক আবদুল সালাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি, সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

