নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকুকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় তার বাবার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমগাঁও এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মৃত খন্দকার শুকুর মাহমুদের বাড়ি থেকে আবুল বাশার টুকুকে আটক করা হয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাহউদ্দিন জানান, খন্দকার আবুল বাশার টুকুর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা-সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন আবুল বাশার টুকু। তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া এবং রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দলীয় পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অনুসারীদের ব্যবহার করে জমি দখল, অবৈধ বালু ভরাট, টেন্ডারবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকার দিনমজুর, স্কুলশিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। এমনকি তার দায়ের করা একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবুল বাশার টুকুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আইনগতভাবে বিবেচিত হবে।

