নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিশু-কিশোরদের ফুটবল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন কোচ সোহরাব উদ্দিন সিকদার। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফুটবল শেখাচ্ছে জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া ফুটবল একাডেমি। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে তাদের বড় মঞ্চে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
নিজের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন সোহরাব উদ্দিন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁর। সেই ভালোবাসা থেকেই জালকুড়ি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাত্র কয়েকজন শিশুকে নিয়ে শুরু করেন ফুটবল প্রশিক্ষণ।
সময়ের সঙ্গে তাঁর এই উদ্যোগের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০ জন শিশু-কিশোর নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শুধু ফুটবল খেলা শেখানো নয়, নিয়মিত অনুশীলন ও খেলার নিয়মকানুনের সঙ্গে পরিচিত করে শিশুদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।
একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিম জানায়, এখানে এসে সে অনেক কিছু শিখেছে। আগে শুধু ফুটবল খেলত, এখন নিয়ম মেনে অনুশীলন করে। ভবিষ্যতে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্নও রয়েছে তার।
কোচ সোহরাব উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আমি হয়তো খেলোয়াড় হিসেবে খুব বেশি দূর যেতে পারিনি। কিন্তু আমার শিক্ষার্থীদের কেউ যদি একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামে, সেটিই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
তাঁর এই উদ্যোগে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে এলাকার শিশুরা। ফলে আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও ফুটবলের প্রতি আগ্রহী শিশুদের খেলাধুলা শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সোহরাব উদ্দিনের প্রত্যাশা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে একাডেমির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে ভালো মানের ফুটবলার উঠে আসবে। তাদের কেউ জাতীয় পর্যায়ে খেলবে—এই স্বপ্ন নিয়েই তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলার তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

