ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত ও পরিচিত একটি নাম জাকির খান। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় এই নেতা একজন দক্ষ সংগঠক ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন।
বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তার ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অনেকের নজর কেড়েছে। প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এলাকার শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। কখনও শিশুদের হাতে ফল তুলে দেন, আবার কখনও তাদের নিয়ে একসঙ্গে খাবার খান। শিশুদের সঙ্গে তার এই সহজ ও আন্তরিক মেলামেশা স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।
শুধু এলাকাতেই নয়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসায় গিয়েও এতিম ও অসহায় শিশুদের খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে তাকে। সেখানে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করে থাকেন তিনি। শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে তার এমন উদ্যোগকে মানবিক রাজনীতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও শিশুদের প্রতি এমন ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাকির খান নিজেকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জাকির খান বলেন, “শিশুরা নিষ্পাপ, তাদের মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ বা কৃত্রিমতা নেই। তাদের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিকভাবে অনেক প্রশান্তি অনুভব করি। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও আমি চেষ্টা করি কিছুটা সময় শিশুদের জন্য রাখতে। বিশেষ করে এতিম ও মাদ্রাসার শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারলে নিজের ভেতরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করে।
জাকির খান বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক শিশু রয়েছে যারা ভালোবাসা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত। আমি মনে করি, সমাজের সামর্থ্যবান ও দায়িত্বশীল মানুষদের উচিত এসব শিশুদের পাশে দাঁড়ানো। শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, তাদের একটু সময় দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া এবং ভালোবাসা দেওয়াটাও অনেক বড় মানবিক কাজ। শিশুদের হাসিমুখ দেখলেই মনে হয় সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও আমি তাদের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি বলেন, “প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমি চেষ্টা করি কিছু সময় শিশুদের সঙ্গে কাটাতে। কখনও তাদের হাতে ফল তুলে দেই, কখনও একসঙ্গে বসে খাবার খাই। আসলে এটি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, সম্পূর্ণ হৃদয়ের টান থেকেই তাদের কাছে যাওয়া। বিশেষ করে এতিম ও মাদ্রাসার শিশুদের প্রতি আমার আলাদা মমত্ববোধ কাজ করে। কারণ সমাজে অনেক শিশু রয়েছে যারা পরিবারের স্নেহ, ভালোবাসা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারলে নিজের কাছেও ভালো লাগে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে তারাই একদিন দেশের সম্পদে পরিণত হবে। শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, খোঁজখবর নেওয়া, সাহস দেওয়া এবং ভালোবাসা দেওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, মানবিক মূল্যবোধ থেকেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। তাই যতদিন বেঁচে থাকবো, চেষ্টা করবো শিশুদের পাশে থাকার এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর।”

