শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীতে আলো, রঙ আর মানুষের পদচারণায় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বর্ণিল সাজসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা আর ঢাকের বাদ্য উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সকাল থেকে ভক্তদের আনাগোনা থাকলেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপগুলোতে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।
নগরীর আমলাপাড়া, টানবাজার, দেওভোগ, মাসদাইরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কোথাও প্রতিমার নান্দনিক রূপ, কোথাও মণ্ডপের শৈল্পিক নির্মাণ, আবার কোথাও আলোর বাহারি আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রতিমা ও মণ্ডপের সাজসজ্জা। অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন, কেউবা দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন পূজার আবহ।
নবমী দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন দেবী দুর্গার আরাধনা, পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর থাকে মণ্ডপগুলো। পূজার আনন্দের পাশাপাশি দেবী বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসার অনুভূতিও ছুঁয়ে যায় ভক্তদের। আনন্দের মাঝেও তাই অনেকের মনে কাজ করছে বিজয়া দশমীর আগাম বিষাদ।
নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসবের বিশেষ আকর্ষণ এর ঐতিহ্য ও সর্বজনীন উৎসবের আবহ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এই আয়োজন নগরবাসীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির সুযোগ তৈরি করে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে মিলনমেলা। শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের আড্ডা এবং পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে উৎসব উপভোগের দৃশ্য নগরীর উৎসবকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
তবে উৎসবের এই আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লে মণ্ডপসংলগ্ন সড়কে যান চলাচল ও মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আলো ঝলমলে মণ্ডপ, ঢাকের তালে তালে পূজার আবহ আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সব মিলিয়ে নবমীতে নারায়ণগঞ্জ যেন ধারণ করেছে উৎসবের পূর্ণ রূপ। দুর্গোৎসবের এই রঙিন আয়োজন নগরবাসীর মনে আনন্দের স্মৃতি তৈরি করছে। একই সঙ্গে সামনে দেবী বিসর্জনের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসায় উৎসবের আনন্দে মিশছে বিদায়ের আবেগও।

