নারায়ণগঞ্জের ইউনাইটেড অ্যাপারেলস ও সেঞ্চুরি অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের চলমান সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইউনাইটেড অ্যাপারেলসের কারখানা কবে চালু হবে এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন কখন পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে।
১৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবও উপস্থিত ছিলেন।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে শ্রমিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গার্মেন্ট ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি এম এ শাহীনসহ ১৫ জন প্রতিনিধি।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানান, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, ২১ অক্টোবরের মধ্যে ইউনাইটেড অ্যাপারেলসের মালিকপক্ষ কারখানা চালুর সম্ভাব্য সময় জানাবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের সময়সূচিও স্পষ্ট করতে হবে।
ইকবাল হোসেন বলেন, শ্রম আইনের ১৩(১) ধারার প্রসঙ্গ তুলে কারখানা বন্ধ থাকার সময়ের জন্য কোনো পাওনা দিতে মালিকপক্ষ সম্মত হয়নি। তবে শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে ওই সময়ের জন্য অন্তত কিছু আর্থিক সুবিধা অথবা হাজিরাভিত্তিক পাওনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কারখানাটির ৪৩ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাইজনিত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকপক্ষ। পাশাপাশি যেসব শ্রমিকের চাকরির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়নি, তাঁদেরও অন্তত এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কারখানা বন্ধ, বকেয়া বেতন এবং ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এর আগে একাধিকবার কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকেরা। গত ৮ অক্টোবর সকালে ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় এলাকায় ইউনাইটেড অ্যাপারেলসের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। এ সময় কারখানা চালু, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যায্য ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এরপর ১৩ অক্টোবর সকালে একই দাবিতে চাষাঢ়ায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে শ্রমিকদের দাবি ও কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এখন ২১ অক্টোবরের মধ্যে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। কারখানা চালুর সময়সূচি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই সংকট নিরসনের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে।

