নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি, সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ এবং মামলা-জরিমানার সমাধানের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চালকরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচিতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য শহিদুল ইসলাম। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলে চালকরা সড়ক থেকে সরে যান। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চালকরা প্রথমে শিমরাইল এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় এসে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকজাতীয় বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
আন্দোলনকারী চালকদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। পাশাপাশি ইজিবাইকের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারণ এবং পুলিশের দায়ের করা মামলা ও জরিমানার বিষয়টি সমাধান করতে হবে।
চালকদের অভিযোগ, ইজিবাইক চলাচলের কারণে তাদের বিরুদ্ধে করা প্রতিটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। তাদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাবি-দাওয়া থাকলেও সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা উচিত নয়। ইজিবাইক চলাচল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সিদ্ধান্ত এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই রাজ্জাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য শহিদুল ইসলাম। তিনি চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
চালকদের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, “আপনারা রাস্তা থেকে সরে যান। আমি নিজে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আপনাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
তার আশ্বাসের পর আন্দোলনকারী চালকরা সড়ক থেকে সরে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধের অবসান ঘটে। এরপর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ইজিবাইক চালকদের দাবি, মামলা-জরিমানা ও নগরীতে চলাচলের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান চান তারা। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চালকরা।

