রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেননি হোসে মরিনহো। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দলের জয়ের রাতেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লাল কার্ড এবং রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সংবাদ সম্মেলনে মরিনহোর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে সামনে এসেছে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা।
রিয়াল মাদ্রিদ সাধারণত বড় জয় পেলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে খেলোয়াড়দের পাঠানোর ক্ষেত্রে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। তবে এমন পরিস্থিতিতে দলের কেউ একজন সামনে এসে জয় নিয়ে ইতিবাচক কথা বলবেন এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল।
কিন্তু এবার তেমন কিছুই হয়নি। সাংবাদিকেরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও সংবাদ সম্মেলনের দরজা খোলেনি। পরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বললে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; এমন আশঙ্কা থেকেই সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন মরিনহো।
ম্যাচজুড়েই কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিয়াল কোচ। একবার হলুদ কার্ডও দেখেছেন তিনি। কয়েকবার আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে দলের কর্মকর্তাদের তাকে শারীরিকভাবে সামলাতে হয়েছে।
পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল এবং তাকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায়। গোল করার পর সতীর্থের সঙ্গে উদ্যাপন করতে দৌড়ে গিয়েছিলেন মরিনহো। কিন্তু পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে গোল বাতিলের পাশাপাশি সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে।
রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। মাঠ ছাড়ার সময় কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরেন তারা। ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে, একটি নিষ্প্রাণ লড়াই হঠাৎ করেই বিতর্ক ও নাটকীয়তায় ভরে ওঠে।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ডিন হাউসেন লাল কার্ড দেখেছিলেন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে টানা দুই ম্যাচে লাল কার্ড দেখলো রিয়াল।
তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এত বিতর্কের মধ্যেও রিয়ালের পারফরম্যান্সের দুর্বলতা আড়াল করা যাচ্ছে না। মরিনহোর দল শিরোপার জন্য সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বার্সেলোনার সমর্থকেরা এই পারফরম্যান্স দেখে খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ খুঁজে পাবেন না।

